fbpx

বিশ্বায়নের যুগে চাই ইংরেজিতে দক্ষতা

শতাব্দীধরে সারাবিশ্বে স্বাচ্ছন্দ্যে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে যে ভাষাটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে সেটি হল ইংরেজি। ৩৫০ মিলিয়ন মানুষের প্রথম ভাষা এটি। বিশ্বের ৬০ টির ও বেশি দেশে ইংরেজি অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে  ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বায়নের ফলে এখন সবারই ইংরেজির প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষিত মানুষরা ইংরেজিতে দূর্বলতার কারনে এখন বিশ্বায়নের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। বর্তমানে শুধু মাতৃভাষা বাংলা দিয়ে সব কাজ করা সম্ভব নয়। জীবন যাত্রার পরিবর্তন থেকে শুরু করে চাকরি পাওয়া,প্রমোশন,তথ্য-প্রযুক্তির ব্যাবহার,আমদানী-রপ্তানী, উচ্চ শিক্ষা,কূটনীতি ও দেশ চালনা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে সফল হবার প্রাথমিক পূর্ব শর্ত ইংরেজিতে দক্ষতা। তাই বিশ্বায়নের এ যুগে ইংরেজি শেখার গুরুত্ব বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিই সেটা বলে দেবে। সঠিকভাবে ইংরেজি বলতে ও বুঝতে পারা ক্যারিয়ার গঠনেও সহায়ক। তাই অন্যান্য দক্ষতার পাশাপাশি ভাল ইংরেজি জানা থাকলে জীবনে এগিয়ে যাওয়াটা অনেক গতিশীল হয়। বিশ্বের সর্বাধুনিক জ্ঞান এবং গবেষনায় প্রবেশ করতে হলে আমাদের ইংরেজি শেখা প্রয়োজন। সরকারি হিসেব মত বাংলাদেশের ৬২% মানুষ শিক্ষিত। কিন্তু দেখা যায় এদের মধ্যে কেবল অল্প কিছু সংখ্যকই ইংরেজিতে কথা বলতে পারে। ফলে এই অল্প সংখ্যক লোকই চাকুরি করার সুযোগ পায়। আপনি যখন কোন আধুনিক  কর্মক্ষেত্রে যোগদান করবেন তখন প্রথমেই ইন্টারভিউ থেকে শুরু করে সবকিছুতেই আপনাকে ইংরেজিতে কথা বলতে হবে। হয়তো সবার সাথে প্রতিনিয়ত ইংরেজিতে কথা বলা একটু কঠিন কাজ, কিন্তু এটাই নিয়ম। ইংরেজিতে দক্ষতা ভাল চাকুরী, ভাল বেতনের পাশাপাশি কর্ম ক্ষেত্রে আপনাকে ঈশ্বনীয় সফলতাদানে সহায়তা করে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক এ ভাষাটি শেখার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে । বিবর্তনশীল বিশ্ব এ প্রয়োজন সৃষ্টি করেছে।

 দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সঠিকভাবে ইংরেজি বলতে ও বুঝতে পারা খুবই জ্রুরি। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা হওয়ায় অনেকেই আমরা ইংরেজিতে দুর্বল থাকি। যার ফলে দেখা যায়, একাডেমিক এবং দেশের বাইরে যাবার জন্য আমাদের প্রায়ই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কিন্তু ক্যারিয়ারে ভাল ফলাফল এমনকি দেশের বাইরে গিয়ে উচ্চ শিক্ষায় ডিগ্রি লাভের জন্য আমাদের ইংরেজি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।মাতৃভাষা ব্যতিত অন্য যে কোন ভাষা কঠিন কাজ তবে অসম্ভব নয়। বর্তমানে ইংরেজি ভাষা সারা বিশ্বে আবেদন সৃষ্টি করেছে এবং বহুমুখী যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি অত্যাবশ্যক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে ইংরেজিতে আমাদের ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। অন্যান্য দেশের সাথে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য আমাদের ইংরেজি শিখতেই হবে।  তাছাড়া উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য আমাদের এটা শেখা উচিত।

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। মেরুদন্ড ছাড়া যেমন কোন প্রাণী সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, তেমনি শিক্ষা না থাকলে মানব জাতি উন্নতি করতে পারে না। সুশিক্ষিত মানব সম্পদ একটি দেশের উন্নয়নের চাবিকাঠি। তাই সুশিক্ষা অর্জনের জন্য বাংলা শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষারও গুরুত্ব রয়েছে।  আমাদের দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বেশ কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। যেমন : প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। শিক্ষার এই স্তরগুলোতেও ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দিকটি ফুটে উঠেছে। প্রাথমিক থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বইগুলো ইংরেজিতে লেখা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের খুব অল্প সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীই ইংরেজিতে কথা বলতে ও লিখতে পারে। ফলে দেখা যায় শুধু তারাই বিদেশ থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে এসে নিজ জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। বাকি লোকজন বেকারত্ব জীবন যাপন করতে শুরু করে। বেকারত্ব এখন ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। তার ওপর বেকারত্বের কারণে দেশ থেকে দারিদ্র্য নির্মূল করা যেন আকাশ কুসুমে পরিণত হয়েছে। বেকারত্ব দূর করার জন্য শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। কারিগরি ও প্রকৌশলগত জ্ঞান দিয়ে বাড়তি জনশক্তিকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। এতে ইংরেজি শিক্ষার প্রভাবও অপরিসীম।

বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। আর এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার, ইন্টারনেটে যা কিছু করা হয় তার পুরোটাই ইংরেজির উপর নির্ভরশীল।  তাই আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য ইংরেজি শিখতে হবে। আমাদের দেশে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষা ব্যবহারে খুবই দুর্বল। ইংরেজিতে ভালো নম্বর পেয়ে পাস করেও তারা কর্মক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষা ব্যবহারের দক্ষতা দেখাতে পারে না। কারণ তারা ইংরেজি ভাষা শিখে, ভাষা অর্জন করে না। বিদেশি ভাষা হিসেবে প্রথমেই তাদের মধ্যে একটি ভীতি কাজ করে। তাছাড়া যে কারণটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো আমাদের দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা ইংরেজি পড়ে পরীক্ষায় পাস করার জন্য, ইংরেজি শেখা বা জানার জন্য নয়। খুব অল্প সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী পাওয়া যাবে যারা আগ্রহের সাথে ইংরেজি পড়ে। আমাদের সকলের মধ্যে ইংরেজি নিয়ে কমবেশি আতংক কাজ করে। ছাত্র, শিক্ষক, এমনকি অভিভাবক মহলেও।

 বাংলাদেশে  তেমন ভালো ইংরেজি শেখার কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইংরেজি মাধ্যমের কিছু স্কুল মোটামুটি ইংরেজি শেখাচ্ছে। তবে বেশিরভাগেরই খারাপ অবস্থা। উচ্চারণ ঠিক হচ্ছে না। ভুল ইংরেজি শিখছে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও নিজের মতো করে ইংরেজি শেখাচ্ছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের শেখানোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই।গ্রামগঞ্জে থাকা দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষই ইংরেজি শেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দক্ষ ইংরেজি শিক্ষকের অভাবে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও ছাত্রছাত্রীরা ইংরেজি ভাষা শিখতে পারছে না।দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ইংরেজির ব্যাপক ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। প্রায় সব বাংলা মাধ্যমের স্কুলেই গ্রামারের উপর অত্যধিক গুরুত্ব দেয়া হয় । এই প্রবণতা সম্ভবত দীর্ঘকালব্যাপী চলে আসা ঐতিহ্যের কারণে। তবে এই প্রবণতা সদ্যপ্রসূত মানবশিশুর মাতৃভাষা শেখার পদ্ধতির বিপরীত । জন্মের পর থেকেই শিশু মাতৃভাষা শেখে পারিপার্শ্বিকতা থেকে । ইংরেজী বিদেশি ভাষা । তবে এটাও সত্য , স্বাভাবিক ঝোকপ্রবণতার বাইরে গিয়ে কিছু শেখা সত্যিই কষ্টকর । এজন্যই প্রাকৃতিক পদ্ধতি এত গুরুত্বপূর্ণ । গ্রামারের প্রয়োজনীয়তা আছে । কিন্তু ইংরেজিতে যোগাযোগের চেয়ে বেশি নয়। কারণ ভাষা থেকেই ব্যাকরণের সৃষ্টি।

আমাদের দেশে স্কুল পর্যায়ে ইংরেজী শেখানো হয় বাংলা দিয়ে । ফলে অবচেতন দক্ষতা তৈরী হয় না । তখন ইংরেজী বুঝতে বাংলার সাহায্য দরকার হয় । শেখার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় । এটি ইংরেজী শেখার পথে বড় অন্তরায় । এছাড়াও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাব বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী । দেশের বেশিরভাগ মানুষ দরিদ্র । এ কারণে টেলিলিভিশন,ইন্টারনেটের মাধ্যমে virtual learning এর সুযোগ নেই। খুব কম বিদ্যালয়েই বিশেষ করে ইংরেজীতে খবরের কাগজ বা পত্রিকা পড়ার সুযোগ আছে । এছাড়া ছাত্রছাত্রীরাও শুধু পাশ করতে যা পড়তে হয় তা মুখস্ত করেই সন্তুষ্ট থাকে । প্রশ্নপদ্ধতির দুর্বলতা এমন করার অবাধ সুযোগ করে দিচ্ছে । অর্থাৎ কোন ভাষা শেখার চারটি উপায় শোনা,বলা,পড়া ও লেখা কোনটিরই  সার্থক চর্চা হচ্ছেনা ।যাই হোক ইংরেজি ভাষা শেখা আসলে খুব কঠিন কিছু না।  প্রয়োজন সেই ভাষা শেখার ধৈর্য্য, সেই ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা আর সাধনা। ইচ্ছা থাকলে তা কখনই অসম্ভব নয়।

mcb

mcb

Leave a Replay

About

We are now offering range of Courses including Diploma in Retail Management and Diploma in Logistics & Supply Chain Management. Both Courses are in high demand in Bangladesh

Recent Posts

Follow Us

Weekly Tutorial

Close Menu